ফ্রিল্যান্সিং কি : এটা কোন চাকরি না, স্বাধীনভাবে নিজের দক্ষতা অনুযায়ী কাজ করা। বর্তমানে বাংলাদেশে লক্ষ তরুণ ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ছেন।
১• ফ্রিল্যান্সিং করতে কি কি কাজ শেখা লাগে?
ফ্রিল্যান্সিং শিখতে সব কাজ শেখার প্রয়োজন নেই,
নিচে দেওয়া একটি বা দুইটি কাজ শিখলে আপনার মোটামুটি আইডিয়া হয়ে যাবে,
- গ্রাফিক ডিজাইন: ব্যানার, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, লোগো,বা UI/UX ডিজাইন।
- ভিডিও এডিটিং: টিকটকের, ইউটিউব, বা ফেসবুক জন্য প্রফেশনাল ভিডিও এডিটিং।
- ওয়েব ডেভেলপমেন্ট: ওয়েবসাইট বানানো {JavaScript, CSS, HTML, WordPress]।
- কনটেন্ট রাইটিং: ব্লগ পোস্ট বা কপিরাইটিং।
- ডিজিটাল মার্কেটিং: গুগল/ ফেসবুক অ্যাডস, এসইও (SEO), সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট।
- (AI) সার্ভিস: বর্তমানে (ChatGPT) বা অন্যান্য এআই টুল ব্যবহার করে কাজ করার চাহিদা অনেক বেশি।
২ • কাজ শিখবেন কীভাবে?
দক্ষতা অর্জনই ফ্রিল্যান্সিংয়ের মূল চাবিকাঠি। আপনি দুইভাবে শিখতে পারেন ?
- ফ্রি রিসোর্স: ইউটিউবে (YouTube) প্রায় সব বিষয়ের টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। এছাড়া গুগল ও বিভিন্ন ব্লগ পড়েও শেখা যায়।
- পেইড কোর্স: আপনি যদি গোছানো গাইডলাইন চান, তবে দেশি বা বিদেশি কোনো ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে কোর্স করতে পারেন।
৩ • শিখতে কতদিন সময় লাগে?
- বেসিক লেভেল : ৪ থেকে ৫ মাস যদি আপনি নিয়মিত সময় দেন তাহলে আপনার বেসিক লেভেল টা কমপ্লিট হয়ে যাবে এবং আপনি কাজের উপরের ধারণা পাবেন ।
- (high) লেভেল : ৬ থেকে ১.২ বছর যদি কঠোর পরিশ্রম করেন তাহলে আপনি ভালো পরিমাণ আগাতে পারবেন এবং কি সব ধরনের ক্লায়েন্টের সাথে ডিল করতে পারবেন তখন আর কাজের জন্য বসে থাকতে হবে না ।
৪ • কাজের ধরন : ফ্রিল্যান্সিংয়ে মূলত ক্লায়েন্টের চাহিদা
অনুযায়ী প্রজেক্ট ভিত্তিক কাজ করতে হয়, দেখেন 👇
- কোন একটা ভায়ার, কোম্পানি, তারা আপনাকে বলবে এই নামে একটা লোগো বানিয়ে দাও।
- কেউ আপনাকে তার ফেসবুক পেজের ম্যানেজমেন্ট করার জন্য আপনাকে দায়িত্ব দিবে, বা কেউ আপনাকে তার ওয়েবসাইটের যেকোনো কাজের জন্য দায়িত্ব দেবে
৫• কোথায় সেরা (মার্কেটপ্লেস) পাবেন?
কাজ পাওয়ার জন্য সবচেয়ে থেকে ভালো সাইটগুলো এবং বিশ্বস্ত সাইট এখানে আপনি ভালো পরিমান ভাইয়ের পাবেন কাজ নেওয়ার জন্য এবং করার জন্য , যেমন
- Fiverr (ফাইভার): আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন তাহলে এই Fiverr আপনার জন্য ভালো অপশন হবে, কারণ আপনি এখানে ছোট ছোট কাজ পাবেন, এবং কারণ আপনি এখানে ছোট ছোট কাজ পাবেন, এবং সহজে কাজ বুঝবেন।
- Freelancer.com: এখানে প্রচুর কাজ পাবেন এবং কন্টেন পাবেন যেগুলো সহজে আপনি করতে পারবেন এবং এখানে আপনার প্রচুর ভায়ার পাবেন।
- Upwork (আপওয়ার্ক): বড় বড় অভিজ্ঞ তাদের জন্য সুখবর এখানে আপনারা বড় বড় ডিল করতে পারবেন এবং অপূর্ন সুযোগ পাবেন।
- Toptal: এটি অত্যন্ত দক্ষ এবং অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি এক্সক্লুসিভ প্ল্যাটফর্ম।
- LinkedIn (লিঙ্কডইন): আপনি যদি বাহিরের দেশে কোন ক্লায়েন্ট করতে চান, তাহলে এটা হবে আপনার জন্য পেয়ে কারণ এখানে আপনার সব সময় বাইরের দেশের প্ল্যান পাবেন এবং পেয়ে যাবেন।

৬ • ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে যা প্রয়োজন?
- একটি ভালো ল্যাপটপ বা কম্পিউটার (কিছু কাজ মোবাইলেও করা যায়, তবে কম্পিউটার এবং ল্যাপটপ থাকা জরুরি)।
- আপনার বাসার বা অফিসের, দ্রুতগতির ইন্টারনেট কানেকশন থাকা জরুরী,
- এটা কোন তাড়াহুড়ার কাজ না এটা হচ্ছে ধৈর্যের কাজ আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে।
- ৪ / আপনার সবচেয়ে বেশি যেটা প্রয়োজন হবে সেটা হচ্ছে ক্লাইন্টের সাথে কথা বলার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভাষার প্রয়োজন, তার থেকে সবচেয়ে বেশি জরুরি যে ভাষা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে ইংরেজি, অবশ্যই আপনাকে ইংরেজি শিখতে হবে।
৭ . পেমেন্ট বা টাকা তোলার উপায়?
বাংলাদেশ থেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের টাকা তোলার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো Payoneer,
এছাড়া এখন অনেক ব্যাংক সরাসরি ফ্রিল্যান্সিং পেমেন্ট গ্রহণ করছে, আপনি পেওনিয়ার কার্ড বা লোকাল ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা আনতে পারবেন।
- পোর্টফোলিও তৈরি করুন: ক্লাইন্ট সবসময় কাজ দেখতে যাবে এবং কি আপনার সব সময় চেষ্টা করবেন আপনার সবচেয়ে ভালো কাজটা দেখানোর জন্য।
- যোগাযোগে দক্ষ হন: কোন ক্লায়েন্ট যদি আপনাকে মেসেজ করে আপনি দ্রুত এটাকে রিপ্লাই দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
- শিখতে থাকুন: প্রযুক্তি প্রতিদিন পাল্টাচ্ছে, তাই আপনাকেও সবসময় নতুন কিছু শিখতে হবে এবং নতুন কিছু বাহির করতে হবে।
- সততা বজায় রাখুন : ডেডলাইন বা কাজের সময়সীমা মেনে চলা ফ্রিল্যান্সিংয়ে টিকে থাকার প্রধান শর্ত।
- নেটওয়ার্কিং: আমরা ক্লায়েন্ট করার জন্য শুধু এক জায়গায় মার্কেটিং করলে হবে না বিভিন্ন বাহির করতে হবে।
উপসংহার
সবচেয়ে বড় কথা মনে রাখতে হবে ফ্রিল্যান্সিং করে আপনি রাতারাতি বড়লোক হতে পারবেন না, আপনার ধৈর্য্য এবং শক্তি থাকতে হবে এবং মনে আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে, জামিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে কোন একদিন কিছু করতে চাই, প্রথমে আমি শিখতে হবে, তারপরে বুঝতে হবে, তারপরে কাজ করতে হবে, ক্লাইন হেন্ডেল করা শিখতে হবে, তারপরে যে হ্যাঁ নিজের মতন করে কাজ শুরু করে দিতে হবে, সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আপনি পারবেন না এটা কোন বিষয় না আপনি পারবেন আপনি একটু চেষ্টা করেন আপনি দাঁড়িয়ে সম্ভব, দেখেন মানুষ পারেনা এমন কোন জিনিস নাই, আমি আপনাকে সাজেস্ট করতেছি আপনি একবার হলে ট্রাই করে দেখতে পারেন, এবং আমার আত্মবিশ্বাস আপনি পারবেন ।











Leave a Reply